NATIV BANER

বাইডেনের সঙ্গে বৈঠকে চার ইস্যু

জাতিসংঘ সদর দপ্তরে ২৪ সেপ্টেম্বর বসবেন তাঁরা
রাজনৈতিক ও কূটনৈতিক মহলে এখন অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ ইউনূস এবং প্রেসিডেন্ট জো বাইডেনের বৈঠক কেন্দ্রীয় আলোচনার বিষয়। জাতিসংঘের সাধারণ অধিবেশনের সাইড লাইনে অনুষ্ঠিত এই বৈঠক বিরল এবং গুরুত্বপূর্ণ, কারণ সাধারণত মার্কিন প্রেসিডেন্ট নিউইয়র্কে দ্বিপক্ষীয় বৈঠক করেন না। বাইডেন ও ইউনূসের এই বৈঠক বাংলাদেশকে বিশেষ গুরুত্ব দেওয়ার ইঙ্গিত দেয়, যা দেশের আন্তর্জাতিক অবস্থানকে শক্তিশালী করে। বৈঠকে বাংলাদেশের বর্তমান পরিস্থিতি, সংস্কারের প্রয়োজনীয়তা এবং যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে সম্পর্কের উন্নয়ন নিয়ে আলোচনা হবে। এটি বাংলাদেশের কূটনৈতিক এবং অর্থনৈতিক পরিস্থিতিতে ইতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে। বিশেষ করে, যুক্তরাষ্ট্রের বিনিয়োগ এবং ঋণ পরিশোধের সময় বৃদ্ধির বিষয়গুলো উল্লেখযোগ্য। এভাবে, বাংলাদেশ আন্তর্জাতিক অঙ্গনে আরও দৃঢ় অবস্থান নিতে সক্ষম হবে। জাতিসংঘে বাংলাদেশের মিশন সূত্রে জানা গেছে, আমেরিকার প্রেসিডেন্টের সঙ্গে ড. মুহাম্মদ ইউনূসের এই বৈঠক তৃতীয় বিশ্বের রাষ্ট্রপ্রধানদের মধ্যে একটি অনন্য ঘটনা। ২৪ সেপ্টেম্বর, নিউইয়র্কে বাংলাদেশ ও যুক্তরাষ্ট্রের শীর্ষ নেতাদের বৈঠক অনুষ্ঠিত হবে, যেখানে ইউনূসের সঙ্গে উপস্থিত থাকবেন পররাষ্ট্র উপদেষ্টা তৌহিদ হোসেন। বৈঠকে চারটি মূল প্রস্তাবনা উত্থাপন করা হবে। প্রথমত, গত ৫ আগস্টের আগে এবং পরে বাংলাদেশের সার্বিক পরিস্থিতি, বিশেষ করে বিভিন্ন খাতের সংস্কারের বিষয় তুলে ধরা হবে। এই বৈঠক বাংলাদেশের জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ মুহূর্ত, যা আন্তর্জাতিক পর্যায়ে দেশের অবস্থান ও সম্পর্ককে আরও দৃঢ় করবে। বৈঠকে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে বাংলাদেশের গুরুত্বপূর্ণ বিষয়গুলো নিয়ে আলোচনা করা হবে। দ্বিতীয়ত, বাংলাদেশের কাছে থাকা ঋণ পরিশোধের সময় বৃদ্ধির অনুরোধ করা হবে। তৃতীয়ত, যুক্তরাষ্ট্রের আরও বিনিয়োগ বাংলাদেশে আনার প্রস্তাব দেওয়া হবে। চতুর্থত, যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিনিধিদের বাংলাদেশ সফরের আমন্ত্রণ জানানো হবে, যাতে তারা সরেজমিনে পরিস্থিতি পরিদর্শন করতে পারেন। ঢাকা ও নিউইয়র্কের সূত্রে জানা গেছে, এই বৈঠক গত বৃহস্পতিবার চূড়ান্ত করা হয়েছে। বাইডেন সাধারণত জাতিসংঘ অধিবেশনে বক্তৃতার দিন সকালে নিউইয়র্কে পৌঁছান এবং পরে রাষ্ট্রপ্রধানদের সম্মানে সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে অংশ নেন। ড. ইউনূসের নিউইয়র্ক সফর তার দায়িত্ব গ্রহণের পর প্রথম আন্তর্জাতিক সফর। বাইডেনের সঙ্গে বৈঠকের পাশাপাশি তিনি ইউরোপীয় কমিশনের প্রেসিডেন্ট উরসুলা ভন ডার লিয়েন, বিশ্বব্যাংকের প্রেসিডেন্ট অজয় বাঙ্গা এবং আইএমএফের ব্যবস্থাপনা পরিচালক ক্রিস্টালিনা জর্জিয়েভার সঙ্গেও সাক্ষাৎ করবেন। এই সফর বাংলাদেশের জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ কূটনৈতিক পদক্ষেপ হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। বৈঠকের পর সন্ধ্যায় জাতিসংঘে ‘জাতিসংঘে বাংলাদেশের সদস্য হওয়ার ৫০ বছর পূর্তি’ অনুষ্ঠানে অংশ নেবেন ড. মুহাম্মদ ইউনূস। সেখানে তিনি বিশ্ব নেতাদের স্বাগত জানাবেন এবং গত ৫ দশকে বাংলাদেশের শান্তিরক্ষী মিশন ও বিভিন্ন ফোরামে অবদানের কথা উল্লেখ করবেন। এছাড়া, জাতিসংঘে বাংলাদেশের কর্মকর্তাদের অন্তর্ভুক্তি বাড়ানোর আহ্বান জানাবেন। মুহাম্মদ ইউনূস ২৩ থেকে ২৭ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত নিউইয়র্কে অবস্থান করবেন, ৫৭ সদস্যের প্রতিনিধি দলের নেতা হিসেবে। এটি বাংলাদেশের ইতিহাসে জাতিসংঘ সাধারণ অধিবেশনে সবচেয়ে কম প্রতিনিধির অংশগ্রহণের ঘটনা বলে কূটনীতিকরা মনে করছেন। তবে, সফরের মাঝে স্থানীয় গণমাধ্যমের সঙ্গে তাঁর সাক্ষাৎ এখনও নিশ্চিত হয়নি। উল্লেখ্য, ২৬ সেপ্টেম্বরের নাগরিক সমাবেশে তাঁর বক্তব্যের কর্মসূচি বাতিল করা হয়েছে।
Next Post Previous Post
No Comment
Add Comment
comment url

popunder